খুলনা, বাংলাদেশ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা

ড. ইউনূস-মোদির বৈঠককে যেভাবে দেখছে বিএনপি

গেজেট ডেস্ক

ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বৈঠকটি নিশ্চয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটার (বৈঠক) প্রয়োজন আছে এবং প্রয়োজন ছিল। এই বৈঠকের জন্য আমাদের সরকার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে চেষ্টা করছিল, এই সময়ে একটা বৈঠক হওয়ার দরকার ছিল, তারা করেছেন। তবে আমি জানি না বৈঠকের অভ্যন্তরে কী আলোচনা হয়েছে। বিশদ না জানলে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’ শুক্রবার রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজ বাসায় দেশের রাজনীতি, সংস্কার, নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস-মোদির বৈঠককে দু’দেশের জন্য ‘আশার আলো’ হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে গুলশানে চেয়ারপারসনে কার্যালয়ে ক্রীড়াঙ্গনে কর্মকর্তা, সংগঠন এবং ক্রীড়াবিদদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব।

ড. ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেছেন- শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা, সীমান্ত হত্যা, তিস্তা বাঁধ প্রকল্প প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি না জেনে কিছু বলতে পারব না। যে সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে শুনলাম, নেহাতই গুরুত্বপূর্ণ এগুলো। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এবং এই বিচার সময়ের দাবি, জনগণের দাবি, আমাদের দাবি। যদি শুধুমাত্র শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তের বিষয়ে কথাবার্তা হয়ে থাকে তাহলে আমি একটু যোগ করতে চাইব, উনার (শেখ হাসিনা) যেসব সাঙ্গোপাঙ্গ আছে, সেখানে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদেরও যেন সঙ্গে ফেরত পাঠানো হয়।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ভারতের উচিত শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে পাঠিয়ে দেওয়া, যাতে তার বিচারটা হয়। কারণ, একটা ফ্যাসিস্টের বিচার হওয়া খুব জরুরি। এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য না, সারা বিশ্বের জন্য এটা খুব জরুরি। কোনো ফ্যাসিস্ট কখনো বিনা বিচারে যেতে পারে না। বৈঠকে যেসমস্ত বিষয়ে কথা হয়েছে বলে আপনারা বলছেন। যেমন- তিস্তার পানি আমাদেরকে দিতে হবে এবং তিস্তা বাঁধের প্রয়োজনীয় সংস্কার, বাঁধ আমাদের করতে হবে। তিস্তা ও ফারাক্কার বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ কোনো ছাড় দেবে না।’

তিনি বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ একটা শক্ত অবস্থানে আছে। ভারতের সঙ্গে যেসব অসম চুক্তি বিগত সরকারের আমলে হয়েছে এখন সেসব চুক্তি বাতিল করা দরকার। যেসব অসম চুক্তি কার্যকর হয়নি, সেগুলো বাতিল করতে হবে। সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ আপনারা যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বললেন, এগুলো যদি হয়ে থাকে, আমি মনে করি নিশ্চয়ই ভালো আলোচনা হয়েছে। বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে প্রফেসর ইউনূস সাহেব আরও কিছু আলোচনা করবেন, ভালো ফলাফল আমাদেরকে দেবেন।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি। এক গ্রুপ আছে দেশে, আরেক গ্রুপ আছে বিদেশে- যারা নাকি নির্বাচনকে বাদ দিয়ে সংস্কারের কথা বলছেন। আবার বলার চেষ্টা করছেন সংস্কারের কথা শুনলে নাকি বিএনপির মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আমার এখানে তীব্র আপত্তি। বিএনপি কখনো সংস্কারের বিপক্ষে নয়, বিএনপি বরাবর সংস্কারের পক্ষে। একই সঙ্গে বিএনপি নির্বাচনেরও পক্ষে, দুইটারই প্রয়োজন আছে। কিন্তু এমন সংস্কারের পক্ষে বিএনপি নয়, যেটি জনগণের অধিকারের বাইরে চলে যাবে।’

বিএনপি আর আওয়ামী লীগ এক নয় মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘ একটা গোষ্ঠী বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ব্র্যাকেট করার চেষ্টা করতেছে। বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ব্র্যাকেট করার সুযোগ নাই। বিএনপির জন্মই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এটা বুঝতে হবে। আপনারা দেখবেন, এই গোষ্ঠীরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে সমর্থনকারী ব্যবসায়ী মহল, তৎকালীন আমলারা, বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে প্রধানদের বিরুদ্ধে কিছু বলছে না। আমি ব্যবসায়ীদের নাম বলতে পারি, সেই নাম এখন বলতে চাই না। ওরা এখন সবাই মিলে বিএনপির বিরুদ্ধে লেগেছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, এদেশে ফ্যাসিজম ও আধিপত্যবাদকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করা।

ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, বিমসটেকে সাইডলাইন বৈঠক হয়েছে, এটা (বৈঠক) খুব আনন্দের কথা। আমরা মনে করি যে, ভূ-রাজনীতি এবং বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির যে প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ-ভারতের এই অঞ্চলের যে প্রেক্ষাপট- সেই প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ( মুহাম্মদ ইউনূস) এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি (নরেন্দ্র মোদি) সাহেবের বৈঠকটা, এটা আমাদের সামনে একটা আশার আলো তৈরি করছে।

তিনি বলেন, ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে যে একটা বিটারনেস (তিক্ততা) তৈরি হয়েছিলো, সেই বিটারনেসটা তৈরি যেন আর বেশি সামনে না যায় অথবা এটা আপনার যেন কমে আসে, সেখানে একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

ফখরুল বলেন, আমি যতদূর দেখেছি, তাতে করে আমার মনে হয়েছে- এই ব্যাপারে দু’জনই যথেষ্ট আন্তরিক এবং এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের মানুষকে এবং ভারতের মানুষকে, দুই দেশের মানুষের উপকার করবে।

বিএনপি মহাসচিব জানান, ক্রীড়াঙ্গনের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এই অঙ্গনকে কিভাবে উন্নতি করা যায় তা নিয়ে আলাপ হয়েছে। পরে ক্রীড়াবিদসহ অতিথিদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

খুলনা গেজেট/ টিএ




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!